• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম :
বারহাট্টায় ননী গোপাল মঞ্জুশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি নয়নকে সংবর্ধনা ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের উদ্যোগে কলমাকান্দায় ৫ শতাধিক চারা রোপণ শহীদদের স্মরণে নেত্রকোনায় নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত নৌকার চাপে শ্রমিকের মৃত্যু: কলমাকান্দায় অবৈধ বালু উত্তোলন থামছে না সুস্থ সমাজ গঠনে দুর্গাপুরে পুলিশের ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেত্রকোনায় ডিএনসি’র অভিযানে ৭ মামলার আসামিসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইয়ুথকোয়েকস: ২০২৪ রেভ্যুলুশন রিভিজিটেড’ শীর্ষক আলোচনা কেন্দুয়ায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: কলমাকান্দায় ২ যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা কলমাকান্দায় সম্মুখ সমরে প্রাণ দেওয়া ৭ বীর শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হতে পারে যেসব মারাত্মক রোগ

ডেস্ক রিপোর্ট: / ২৭৯ ভিজিটর :
সংস্করণ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

নিশ্চিন্ত ঘুম মানুষের সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। অথচ আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, প্রযুক্তিনির্ভরতা আর মানসিক উদ্বেগের কারণে ঘুম আজ অনেকের কাছেই বিলাসে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমানো বা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসকে বলা হয় ঘুমের ঘাটতি। এটি শুধু সাময়িক ক্লান্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না, দৈনন্দিন নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার পেছনে মূল কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

ঘুমের ঘাটতির প্রথম ও সবচেয়ে সাধারণ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। কাজ শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা কমে যায়। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পেশাজীবী- সবাই এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করেন। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকলে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে, যা সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।

ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের সময় শরীর বিভিন্ন প্রতিরোধক কোষ ও প্রোটিন তৈরি করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়মিত কম ঘুমালে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রমণে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিল অসুখের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ঘুমের ঘাটতির প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন বাড়ায়। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন কম ঘুমান, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর।

ঘুমের অভাব বিপাকক্রিয়াকেও ব্যাহত করে। শরীরের ইনসুলিন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, বিশেষ করে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। এর পরিণতিতে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সমস্যা দেখা দেয়।

ত্বক ও সৌন্দর্যের ওপরও ঘুমের ঘাটতির প্রভাব পড়ে। ঘুমের সময় ত্বক নিজেকে মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরি হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও নিষ্প্রভ, চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলাভাব দেখা দেয়। দীর্ঘদিন কম ঘুমালে বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে, বলিরেখা বাড়ে। চুল পড়া ও চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার সঙ্গেও ঘুমের অভাব জড়িত।

শারীরিক শক্তি ও কর্মক্ষমতার দিক থেকেও ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর সারাদিন ক্লান্ত অনুভব করে, পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। খেলোয়াড় বা শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ক্ষেত্রে এটি পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এমনকি দৈনন্দিন কাজেও ভুলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম। ঘুমের ঘাটতি হলে থাইরয়েড, কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ব্যাহত হয়। এর ফলে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে অনিয়ম দেখা দিতে পারে, পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌনস্বাস্থ্য ও শক্তি কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রজননস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

শিশু ও কিশোরদের জন্য ঘুমের গুরুত্ব আরও বেশি। এই বয়সে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায় এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে অনেক শিশু-কিশোর রাত জেগে থাকে, যা ভবিষ্যতে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘুমের ঘাটতি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে, অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। দুর্ঘটনা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়ে। একটি সুস্থ ও কার্যকর সমাজ গড়ে তুলতে নাগরিকদের পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি জীবনের অপরিহার্য চাহিদা। সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শরীর ও মনের যত্নে খাবার ও ব্যায়ামের মতোই ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমই পারে মানুষকে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০