• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

কলমাকান্দার বাতানিয়াপাড়ায় জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা, পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার

সংবাদদাতার নাম: / ১৪৮ ভিজিটর :
সংস্করণ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: তাঁতের খটখট শব্দ। সুতোয় সুতোয় নকশা। দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে জামদানি শাড়ির সৌন্দর্য। নেত্রকোনার কলমাকান্দার প্রত্যন্ত রংছাতি ইউনিয়নের বাতানিয়াপাড়ায় এখন এই তাঁতের ছন্দেই বোনা হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার গল্প।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার আগে বাতানিয়াপাড়ার জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানায় গিয়ে সেই কর্মচাঞ্চল্যই প্রত্যক্ষ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। কারখানার ভেতরে ঢুকে তিনি ঘুরে দেখেন জামদানি তৈরির বিভিন্ন ধাপ। কথা বলেন কারিগরদের সঙ্গে। জানতে চান তাঁদের কাজ, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও নানা বাস্তবতার কথা।

একটি জামদানি শাড়ি তৈরি শুধু সুতো ও তাঁতের কাজ নয়—এর পেছনে থাকে কারিগরের দীর্ঘ সময়ের শ্রম, ধৈর্য ও দক্ষতা। একটি নকশা ফুটিয়ে তুলতে তাঁতিদের একাগ্রতা এবং সূক্ষ্ম কাজের প্রয়োজন হয়। বাতানিয়াপাড়ার কারিগরদের হাতে সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পই যেন নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।

প্রত্যন্ত এই এলাকায় জামদানি তৈরির উদ্যোগ শুধু একটি কারখানা নয়; এটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদেরও এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো, নতুন নকশা তৈরি এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এই ছোট উদ্যোগই বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জ। কাঁচামালের মূল্য, দক্ষ কারিগর ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারজাতকরণ—সবকিছু মিলিয়ে টিকে থাকা সহজ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে।

ডেপুটি স্পিকারের কারখানা পরিদর্শন তাই স্থানীয়দের কাছে কেবল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন নয়; এর মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার একটি সম্ভাবনাময় হস্তশিল্পের দিকও সামনে এসেছে। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের ছন্দে যদি যুক্ত হয় প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের সংযোগ, তাহলে এখানকার জামদানি একদিন কলমাকান্দার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুকন পাঠানসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের প্রতিটি টানে তাই শুধু একটি শাড়ি তৈরি হচ্ছে না—বোনা হচ্ছে শ্রম, দক্ষতা আর সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০