দলীয় প্রতীক থাকছে না, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে জড়িতদের ছাড় নয়: চিফ হুইপ
ডেস্ক রিপোর্ট | অগ্রদূত পোস্ট : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। নির্বাচনে প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে দলটি। পাশাপাশি বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক। স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন—এটাই দলের প্রত্যাশা।
তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তৃণমূলের সিদ্ধান্ত, জনসমর্থন ও জবাবদিহি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত, জনসমর্থন ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
নির্বাচনের সময়সূচি, প্রার্থী মনোনয়ন ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও জনমুখী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।