কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শুনুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে থাপ্পড় মারার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে একটি সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন সভায় অযথা তর্ক না করে বিষয়টি বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খুরশেদ আলম তাঁকে গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও সাংবাদিকদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। ওই ভিডিওতে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমকে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের দিকে হাত বাড়িয়ে আঘাত করতে এবং পরবর্তী সময়ে উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে তখন তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তাঁকে জানানো হয়।
এদিকে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পারস্পরিক আচরণ, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।