• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

বাজারের নির্ভরতা কমাতে বিশ্বনাথপুরে দেশীয় বীজের ভাণ্ডার গড়ার উদ্যোগ

সংবাদদাতার নাম: / ৩৪ ভিজিটর :
সংস্করণ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: “আগামী প্রজন্মের হাতে থাক নিরাপদ কৃষি” সময়োপযোগী ও দূরদর্শী এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং ‘দেশীয় বীজের সেতুবন্ধন’ তৈরির লক্ষ্যে আমতলা ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে বীজ বিনিময় ও সংরক্ষণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই অনুষ্ঠানটি পালিত হয়।

স্থানীয় কৃষক, কৃষাণী ও যুব সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষি ঐতিহ্য রক্ষা ও কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে স্থানীয় কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথপুর কৃষক সংগঠনের সভাপ্রধান মো. হায়দার মিয়া। তার প্রাণবন্ত সঞ্চালনা ও দিকনির্দেশনায় দেশীয় বীজ সংরক্ষণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশীয় বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অপরিহার্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন স্থানীয় অভিজ্ঞ কৃষক মো. বখতিয়ার মিয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ করতে হলে আমাদের অবশ্যই স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিতে চলমান বীজ সংকট মোকাবেলায় মৌসুমভিত্তিক প্রতিটি বীজ সংগ্রহ করা এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষক যেমন সময়মতো বীজ রোপণ করতে পারবেন, তেমনি কৃষিকাজে উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সর্বোপরি এর মাধ্যমে বীজের জন্য বাজারের ওপর কৃষকের নির্ভরশীলতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মো. হায়দার মিয়া কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “কৃষিতে সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে হলে বীজ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। বীজ যদি কৃষকের নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে কৃষক তার নিজস্ব পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ফসল রোপণ করতে পারবেন। এতে কৃষকের স্বাধীনতা ও অধিকার দুই-ই নিশ্চিত হয়।”

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় ও আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নতুন প্রজন্মের হাতে বীজ সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ। আলোচনা পর্ব শেষে গ্রামের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কৃষাণী রোকেয়া বেগম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব বিশ্বনাথপুর যুব সংগঠনের সদস্যদের হাতে তুলে দেন। এ সময় যুব সংগঠনের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে শপথ গ্রহণ করেন যে, তারা প্রতিটি মৌসুমে নিয়ম করে দেশীয় বীজ সংগ্রহ করবেন এবং অদূর ভবিষ্যতে গ্রামে একটি সমৃদ্ধ ‘বীজ ভাণ্ডার’ বা সিড ব্যাংক গড়ে তুলবেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে স্থানীয় জাতের বীজ বিতরণ করা হয়। বিশ্বনাথপুর এগ্রো ইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মর্জিনা বেগম অনুষ্ঠানে আগত কৃষক-কৃষাণী ও যুবকদের মাঝে লাউ, করলা, ডাঁটাসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের সবজির বীজ বিতরণ করেন।

দেশীয় জাতের বীজ রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার এমন মহতী উদ্যোগ স্থানীয় সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar