কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল রাখার দায়ে এক দোকানিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকান থেকে জব্দ করা হয়েছে ৩৮টি নিষিদ্ধ জাল, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৯০ মিটার। পরে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ববাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ওই দোকানিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, চায়না দুয়ারি জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে শুধু বড় মাছ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা, ডিম ও জলজ প্রাণীও নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে নদী, খাল-বিল ও জলাশয় থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পুরো জলজ প্রতিবেশব্যবস্থা।
স্থানীয়দের মতে, একসময় কলমাকান্দার নদী-খাল ও জলাশয়গুলোতে কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটি, মলা, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত আহরণ, জলাশয় দখল-দূষণ এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারসহ নানা কারণে এসব মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরলে ছোট পোনাগুলোও রেহাই পায় না।
এভাবে একটি ছোট মাছের পোনা নষ্ট হওয়ার সঙ্গে হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের অসংখ্য মাছের সম্ভাবনাও। তাই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযানকে শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় হিসেবে না দেখে দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ মৎস্যসম্পদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
ইউএনও এন. এম. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বিক্রি বা মজুতের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের অভিযানের পাশাপাশি জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। কারণ নদী-খাল-বিলের ছোট ছোট মাছের পোনাগুলোই একদিন বড় হয়ে দেশের মৎস্যসম্পদের অংশ হবে। আজ একটি পোনা বাঁচানো মানে ভবিষ্যতের একটি জলাশয়কে মাছের আবাস হিসেবে বাঁচিয়ে রাখা।